২০২৪ সালের জুলাই মাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসও আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ক্যাম্পাসে ভয় কাটিয়ে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করে।
আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা জানান, ১৬ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত টানা কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ রাবি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতিকে আমূল পরিবর্তন করে। তাদের দাবি, এই সময়ে সংঘটিত কর্মসূচি ও প্রতিরোধ পরবর্তী জাতীয় গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৬ জুলাই দুপুর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা আগে থেকেই জানতে পারেন, একই সময়ে ছাত্রলীগও কর্মসূচি পালন করবে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্পাসে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে রাবি-সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। সে সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকলেও মিছিলটি বাধার মুখে পড়েনি।
মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, ছাত্রীদের হলের সামনে পৌঁছানোর পর প্রায় দেড় হাজার নারী শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেন। তাদের অনেকেই আত্মরক্ষার জন্য লাঠি, ঝাড়ুসহ বিভিন্ন সামগ্রী হাতে নিয়ে অবস্থান নেন।
পরে মিছিলটি বিজ্ঞান ভবন এলাকা অতিক্রম করে বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের দাবি, একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিছু হটে ক্যাম্পাসের অন্য অংশে সরে যান।
এ সময় শাহ মখদুম, সৈয়দ আমীর আলী ও লতিফ হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে আরও শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল গালিব মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে বিজয়-২৪ হল এলাকায় ছাত্রলীগের ব্যবহৃত কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
জুলাই আন্দোলনের এই ঘটনাগুলো এখনো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মতে, ওই সময়ের অভিজ্ঞতা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি, অংশগ্রহণমূলক আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্যের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।


