Homeমতামতঅর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ফেরাতে ৩ ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ফেরাতে ৩ ধাপের কৌশল তুলে ধরলেন ড. তিতুমীর

দেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে তিন ধাপের কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর আওতায় ‘রিকভারি’, ‘রেস্টোরেশন’ এবং ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’—এই তিন ধাপে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. তিতুমীর বলেন, প্রথম ধাপ ‘রিকভারি’-তে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য। এ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তারল্যসংকট মোকাবিলা, দীর্ঘদিনের ঋণজট কমানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে রাজস্ব আহরণ ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার কমতে শুরু করাকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখছেন তিনি।

দ্বিতীয় ধাপ ‘রেস্টোরেশন’-এর আওতায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। এ পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করার পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ড. তিতুমীর বলেন, উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চল ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে মোংলা ও চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। কৃষি, ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন’-এর লক্ষ্য হবে অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর সম্পন্ন করা। এ পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শুধু বিদ্যুতের ভোক্তা হিসেবে নয়, উৎপাদক হিসেবেও যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের বিভিন্ন উদ্যোগকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সত্তরের দশকে রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নব্বইয়ের দশকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনীতিকে সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। একইভাবে বর্তমান কৌশলগত উদ্যোগগুলোও বাংলাদেশকে আরও উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments