Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিটাকার বিনিময়ে মিলছে এনআইডি ও সিডিআর: অনলাইনে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নাগরিকদের গোপনীয়...

টাকার বিনিময়ে মিলছে এনআইডি ও সিডিআর: অনলাইনে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য

নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সিমের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), লোকেশন ট্র্যাক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাবের মতো স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং টাকার বিনিময়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এসব তথ্য সরবরাহ করছে একটি সুসংগঠিত চক্র। গবেষণা ও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিসমিসল্যাব’-এর এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে দেশের নাগরিক তথ্যের নিরাপত্তাহীনতার এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে সত্যতা ও তথ্যের নির্ভুলতা
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপ ও ওয়েবসাইটে টাকার বিনিময়ে নাগরিক তথ্য বিক্রির শত শত বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। তথ্য পাওয়ার ধরণ ও প্রক্রিয়ার সততা যাচাইয়ে দেখা গেছে:

  • এনআইডি তথ্য সংগ্রহ: ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি, নাম, ঠিকানা ও সদ্য সংশোধিত হালনাগাদ তথ্যসহ এনআইডি ফাইলে সরবরাহ করা হয়েছে।
  • কল রেকর্ড (সিডিআর): ১,০৫০ টাকা পরিশোধের আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ৩ মাসের পুরো কল হিস্ট্রি সরবরাহ করা হয়, যা প্রকৃত কল বার্তার সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
  • লোকেশন ট্র্যাকিং: ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার বিনিময়ে ১৬ মিনিটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ অবস্থান, ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক টাওয়ার ও গুগল ম্যাপের লিঙ্ক দেওয়া হচ্ছে।

১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফেসবুকে অন্তত ৬৭৫টি তথ্য বিক্রির পোস্ট শনাক্ত করা হয়, যেখানে অন্তত ১১২টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ক্রেতা সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রোফাইলিংয়ের ঝুঁকি
কোনো ব্যক্তি কার সঙ্গে কথা বলছেন, কোথায় অবস্থান করছেন বা কার কাছে কত টাকা লেনদেন করছেন—এসব তথ্য অপরাধীদের হাতে পৌঁছানোর ফলে ব্লাকমেইল, ফিশিং, পরিচয় জালিয়াতি এমনকি সরাসরি প্রাণনাশের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এনআইডি, ফোন নম্বর, কল রেকর্ড ও লোকেশন মিলিয়ে যেকোনো নাগরিকের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করে তাকে নজরদারিতে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

তথ্যের উৎস কোথায়?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি সার্ভারের এপিআই (API) ব্যবহার করে বা সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে এসব তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে বিক্রেতারা। তবে কোনো অসাদুগোষ্ঠী সরকারি বা বেসরকারি ডেটাবেসের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের অপব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তথ্যের মূল উৎস চিহ্নিত করতে অডিট ট্রেইল, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, ভূমিকা অনুযায়ী সীমিত অ্যাক্সেস (RBAC) এবং টেলিকম খাতে তথ্যের প্রবেশাধিকারের ওপর কঠোর আইনি ও প্রযুক্তিগত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য