Homeদৈনিক সংবাদআন্তর্জাতিকমধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম, হরমুজ প্রণালিতে তীব্র সরবরাহ সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম, হরমুজ প্রণালিতে তীব্র সরবরাহ সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত সামরিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে নৌযান চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে চরম সরবরাহ সংকটের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ২৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১.৩ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩.৭০ ডলারে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালিতে স্থবিরতা ও ইরানের নতুন হুমকি
বিশ্বের মোট পরিবাহিত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে প্রণালি দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালিতে এখন তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে:

  • জাহাজ চলাচলে ধস: রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে। সোমবার এ সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র সাতটিতে, যা গত মে মাসের পর সর্বনিম্ন।
  • ইরানের কড়া বার্তা: তেহরানে নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। এছাড়া হরমুজের বাইরে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ ঘোষণার পরিকল্পনা করছে তেহরান।
  • সামরিক সংঘাত: সম্প্রতি তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।

বিকল্প ব্যবস্থা ও বাজারে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা
সরবরাহ শঙ্কা থাকলেও সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প রপ্তানি রুট ব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানার মতো দেশগুলো তেল উৎপাদন বাড়িয়েছে এবং চীনে তেলের চাহিদা সাময়িক কম থাকায় দর এখনো ১০০ ডলারের মাত্রা অতিক্রম করেনি। তবে গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজে পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হলে কিংবা কোনো প্রধান তেল স্থাপনায় হামলা হলে দাম দ্রুতই ১০০ ডলারের ওপরে চলে যাবে।

আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এহেন অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। দীর্ঘদিন তেলের বাজার ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে যেতে পারে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য