কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতার মারাত্মক ঝুঁকি থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মডেল উন্মোচনের উন্মাদ গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) দারিও আমোদেই। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রবন্ধে তিনি যুক্তি দেন যে, এআই ব্যবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেভেলপারদের কিছুটা বাড়তি সময় নেওয়া প্রয়োজন।
আমোদেই প্রস্তাবিত ৩ ধাপের নিরাপত্তা রূপরেখা
আমোদেই তার নিবন্ধে দ্রুতগতির এআই রেস সামাল দিতে একটি সমন্বিত তিন ধাপের আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা পেশ করেছেন:
- স্বতন্ত্র মূল্যায়নকারী নিয়োগ: এআই কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা ইন্টারনাল সিস্টেম যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ও তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা দলকে পূর্ণ ডেটা এক্সেস দেওয়া।
- প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার সমন্বয়: ফ্রন্টিয়ার কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা ভুলে যৌথভাবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সর্বজনীন নীতি নির্ধারণ করবে।
- আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সহযোগিতা: এআই-এর সম্ভাব্য বৈশ্বিক হুমকি সামাল দিতে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।
মাস্ক ও অল্টম্যানের সমর্থন
অ্যানথ্রোপিকের এই আহ্বানে নজিরবিহীন সাড়া দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী এক্সএআই (xAI)-এর প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক এবং ওপেনএআই (OpenAI)-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান। অল্টম্যান এক পোস্টে জানান, কর্মীদের মতো স্বতন্ত্র মূল্যায়নকারীদের ইন্টারনাল অ্যাক্সেস দেওয়ার নীতি উদ্ভাবনী ও সময়োপযোগী। ওপেনএআই-ও খুব শিগগিরই একই ধরনের নিরপেক্ষ সিকিউরিটি অডিট ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার অ্যানথ্রোপিক প্রকাশিত এক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে দেখানো হয়, তাদের ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘ক্লড’ (Claude)-কে ব্যবহার করে অসাধু সাইবার অপরাধীরা মারাত্মক অস্ত্র তৈরির নকশা, বিস্তৃত নজরদারি ও সাইবার হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে। এছাড়া জুলাইয়ে এক সিকিউরিটি টেস্টের সময় অ্যানথ্রোপিকের নিজস্ব মডেল তিনটি বাণিজ্যিক সংস্থায় অননুমোদিতভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল। পাশাপাশি ওপেনএআই-এর এআই এজেন্ট কর্তৃক জার্মানির ওয়েবসাইট দখল ও হাগিং ফেসে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনাগুলো পুরো প্রযুক্তি খাতের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
আমোদেই আশঙ্কার বাণী শিয়রে তুলে সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান গতি না থামালে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের এমন কোনো নিয়ন্ত্রণহীন ‘ঝাঁক’ (Swarm) তৈরি হতে পারে যা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিকাঠামো অচল করে দিয়ে কয়েক শ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটাবে।



