Homeসাহিত্যআন্তর্জাতিক আরবি কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০২৬ পেলেন আলজেরিয়ার সাঈদ খতিবি

আন্তর্জাতিক আরবি কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০২৬ পেলেন আলজেরিয়ার সাঈদ খতিবি

আলজেরিয়ার ঔপন্যাসিক সাঈদ খতিবি ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক আরবি কথাসাহিত্য পুরস্কার (International Prize for Arabic Fiction—IPAF) পেয়েছেন। ‘আরবিক বুকার প্রাইজ’ নামে পরিচিত এই পুরস্কারটি তিনি লাভ করেন তার উপন্যাস ‘I Resist the River’s Course’-এর জন্য।

খতিবির উপন্যাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত প্রায় পাঁচ দশকের আলজেরিয়ার ইতিহাস, ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব এবং দেশটির সামাজিক বাস্তবতা উঠে এসেছে।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র খ্যাতনামা চক্ষু চিকিৎসক আকিলা। তার স্বামী হাসপাতালের মর্গের দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসক। দুজন মিলে মৃত ব্যক্তিদের কর্নিয়া চুরি করে আকিলার ক্লিনিকে বিক্রি করেন। কিন্তু স্বামী হত্যার শিকার হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে তাদের দাম্পত্য জীবন ও কর্মকাণ্ডের নানা গোপন রহস্য সামনে আসে।

একই সময়ে শহরের অন্যপ্রান্তে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রবীণ যোদ্ধারা ফরাসি ঔপনিবেশিকদের সহযোগিতা করার মিথ্যা অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্তির দাবি জানাতে থাকেন। ব্যক্তিগত অপরাধের তদন্ত ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক অপরাধ, ইতিহাসের চাপা অধ্যায় এবং কয়েক দশকের সামাজিক অসুস্থতার দিকে পাঠককে নিয়ে যায়।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আকিলা শুধু রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে চান না; তিনি এমন একটি সমাজকেও রক্ষা করতে চান, যে সমাজ দীর্ঘদিন ধরে নিজের কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করে রেখেছে। এভাবেই একটি অপরাধের কাহিনিকে কেন্দ্র করে খতিবি আলজেরিয়ার ইতিহাস, সমাজ ও মানুষের মানসিক সংকটের গভীরে প্রবেশ করেছেন।

২০২৬ সালের IPAF-এর চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল ছয়টি উপন্যাস। এগুলো হলো—মিসরের আহমদ আবদুল লতিফের ‘The Origin of Species’, লেবাননের নাজওয়া বারাকাতের ‘The Absence of Mai’, মিসরের দোয়া ইব্রাহিমের ‘A Cloud Above My Head’, ইরাকের দিয়্যা জুবাইলির ‘The Seer’, আলজেরিয়ার সাঈদ খতিবির ‘I Resist the River’s Course’ এবং একই দেশের আমিন জাওয়ির ‘Siesta Dream’।

ছয়টি উপন্যাসের মধ্য থেকে খতিবির বইটিকেই বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করে বিচারকমণ্ডলী।

IPAF ২০২৬-এর বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি মোহাম্মদ এলকাদি জানান, বিজয়ী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল। তিনি খতিবির উপন্যাসের গভীর বিষয়বস্তু ও অভিনব নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করেন।

এলকাদির মতে, উপন্যাসটি চিন্তার দিক থেকে গভীর এবং নির্মাণশৈলীতে শক্তিশালী। জটিল কাহিনি ও চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মধ্যে লেখক একটি ভারসাম্য তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে খতিবি শুধু অতীতের ইতিহাসকে তুলে ধরেননি, তার বর্ণনার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতেরও একটি সম্ভাব্য রূপরেখা তৈরি করেছেন।

২০২৬ সালের বিচারকমণ্ডলীতে মোহাম্মদ এলকাদির সঙ্গে ছিলেন ফিলিস্তিনি লেখক ও অনুবাদক মায়া আবুল হায়াত, বাহরাইনি শিক্ষাবিদ ও সমালোচক ধেয়া আল কাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষাবিদ লাইলা হিওন বায়েক এবং ইরাকি লেখক ও অনুবাদক শাকির নুরি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য