ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য পত্রিকা ‘আভাস’-এর প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত পত্রিকাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ডাকসুর সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘আভাস’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পত্রিকার সহসম্পাদক আশফাকউল্লাহ আসিফ।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার বলেন, প্রথম সংখ্যায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যৎ সংখ্যাগুলোতে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহসহ সাহিত্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও প্রাধান্য পাবে।
বাজেট সংকটে প্রকাশে বিলম্ব
‘আভাস’ প্রকাশে বিলম্বের কারণ তুলে ধরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা আরও আগেই প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকাশনা পিছিয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উৎস থেকে অর্থের ব্যবস্থা করে পত্রিকাটি প্রকাশের উপযোগী করতে সময় লেগেছে। এ কারণে প্রকাশে বিলম্বের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, বাকি দুই সংখ্যাও শিগগির প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত ডাকসু কার্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা ‘আভাস’ সংগ্রহ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে রকমারি ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমেও পত্রিকাটি পাওয়া যাবে।
পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেখক, অর্থদাতা ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, খন্দকার নূর হোসাইন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসূরী, সায়মুম ফেরদৌস, আশফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদীনের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
‘সাহিত্য ও সংস্কৃতিই সময়কে দীর্ঘস্থায়ী করে’
ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করা ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘আভাস’ প্রকাশিত হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে পত্রিকাটি আরও আগেই প্রকাশ করা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পত্রিকাটি পড়ার পাশাপাশি লেখালেখিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আভাস’-এর প্রথম সংখ্যায় অনেক শিক্ষার্থীর লেখা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল লেখালেখিতে আরও উৎসাহিত করবে।
ডাকসুর জিএস এস এম ফাহাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ডাকসু বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে এবং এসব কাজে অর্থ ব্যয় হয়েছে। তবে একটি সময়ের কাজ ও চিন্তাকে দীর্ঘস্থায়ী করার ক্ষেত্রে সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভূমিকা আলাদা।
তিনি বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমেই একটি সময়ের চিন্তা, কর্ম ও অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ‘আভাস’ যেন দীর্ঘদিন টিকে থাকে—এমন প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, পত্রিকাটি শতবর্ষ টিকে থাকুক এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির দক্ষতা আরও বিকশিত হোক।
জমা পড়েছিল ছয় শতাধিক লেখা
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, ‘আভাস’ প্রকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছয় শতাধিক লেখা জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করে নির্বাচিত লেখাগুলো প্রথম সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পত্রিকাটির জন্য লেখা জমা দিয়েছেন। সেই আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশনাটিকে যতটা সম্ভব মানসম্মতভাবে প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে।
ডাকসুর বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এরপরও প্রায় ২০টি বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এরই মধ্যে কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও ডাকসুর কার্যক্রমে বাধা বা অসহযোগিতা দিয়ে তাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা যে জনরায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে তাঁরা কাজ করে যাবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘আভাস’-এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীল লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদদীন খান, এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান, জিএস এস এম ফাহাদ ও ভিপি সাদিক কায়েম বক্তব্য দেন।
এ সময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি যুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মনির, সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি আজিজুল ইসলাম, জহু হল সংসদের ভিপি আহসান হাবীব ইমরোজসহ ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



