প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিকল্প কোনো শক্তি দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থানে নেই। তিনি মনে করেন, এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিবর্তে গঠনমূলক সমালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।
সোমবার রাজধানীতে ‘অগ্নিঝরা জুলাই, সংগ্রামের সুর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমালোচনা করে নুরুল হক নূর বলেন, জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “ধরুন, সরকার দায়িত্ব ছেড়ে দিল। তারপর দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করবে কে? এমন ভূরাজনৈতিক সংকটের সময় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বিএনপি সরকার ছাড়া আর কোনো বিকল্প আমি দেখছি না।”
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অংশ হওয়ার কারণে তিনি কোনো রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে কথা বলছেন না; বরং এটি বর্তমান বাস্তবতার মূল্যায়ন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ তিনি কাছ থেকে দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলেছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সমন্বিত উদ্যোগে সম্ভাব্য বড় সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে নুরুল হক নূর বলেন, এ সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও অনেক শিক্ষিত তরুণ পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই না করেই বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন। এতে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে বিদেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সুযোগ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
শিক্ষিত তরুণদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের সমালোচনা ও দুর্বলতা তুলে ধরা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে উসকানিমূলক কর্মসূচি বা বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তার ভাষায়, “জুলাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সেই ঐক্য ধরে রেখে গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে হবে।”


