ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টম হাউস, কমলাপুরে কর্মরত সিপাহী আবু রায়হান তালুকদার (৪০)-এর বস্তাবন্দি খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
রোববার বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি আবু রায়হানের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
নিহত আবু রায়হান তালুকদার ওই গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদার ও রাহেলা খাতুন দম্পতির কনিষ্ঠ ছেলে। তিনি ঢাকার বাংলাদেশ কাস্টম হাউস, কমলাপুরে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই রাতে আবু রায়হান নিজ বাড়িতে আসেন। সেদিন রাতে তিনি বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কক্ষে অবস্থান করেন। পরিবারের দাবি, পরদিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজু তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
তবে এরপর আবু রায়হানের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ২৭ জুলাই তার কর্মস্থলের এক সহকর্মী পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
একই দিন রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, কেয়ারটেকার রাজু এবং তার সহযোগী জিতুল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা দুজনই মাদকাসক্ত।
নিখোঁজের ১০ দিন পর রোববার বিকেলে আবু রায়হানের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতরে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় পরে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, পরিত্যক্ত পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


