সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা অঞ্চলের অন্তর্গত জাবাল সাঈদ এলাকায় আনুমানিক ১১ কোটি টন দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ (Rare Earth Minerals) এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের বিশাল ভান্ডারের সন্ধান মিলেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানায়, জাবাল সাঈদে পরিচালিত বিস্তৃত ভূতাত্ত্বিক জরিপে ভারী দুর্লভ উপাদান এবং প্রক্রিয়াকরণযোগ্য উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেদ্দা শহর থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদ খনিটি আন্তর্জাতিক খনি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি কাড়ছে। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন আবিষ্কৃত এই ক্ষেত্রটিতে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ খনিজ এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা খনিজ উপাদানের পাশাপাশি প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম গচ্ছিত রয়েছে।
বর্তমানে এই খনিজ সম্পদের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৮ সালের মূল্যায়নের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। এছাড়া সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইতোমধ্যেই ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি সম্ভাবনাময় খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক আবিষ্কারের পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক অংশীদারিত্বকে মূল চালিকাশক্তি মনে করা হচ্ছে। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে স্বাক্ষরিত বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া গতি পায়।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন সফরের পর দেশটির রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাআদেন’ এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এমপি মেটেরিয়ালস’-এর যৌথ উদ্যোগে একটি আধুনিক প্রসেসিং প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত হয়, যেখানে প্রক্রিয়াটিতে ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে সরাসরি সম্মতি দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন)। এই নতুন আবিষ্কার সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



