বাগদাদের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একটি বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইরাক ও ফ্রান্স। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং সফররত ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মধ্যে প্যারিসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর উভয় দেশ মোট ছয়টি কৌশলগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর নিশ্চিত করেছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় নেতা ফ্রান্স থেকে ভবিষ্যতে সর্বাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য একটি যৌথ রূপরেখা তৈরিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ফরাসি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘হারমাটান এআই’ (Harmattan AI)-এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আগ্রহপত্র। এছাড়া ফরাসি প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর অধীনে আধুনিক কামান, ড্রোন বিরোধী প্রযুক্তি, বিমান প্রতিরক্ষা ও উচ্চ সক্ষমতার নজরদারি ব্যবস্থা ক্রয়ে ফরাসি বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাগদাদ।
সামরিক চুক্তির বাইরেও ফরাসি জ্বালানি পরাশক্তি ‘টোটালএনার্জিস’ (TotalEnergies)-এর সঙ্গে ইরাকের গ্যাস খাতের যৌথ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা এবং ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত অর্থায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা অবিলম্বে হ্রাসের আহ্বান জানান। একই সাথে বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালিসহ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথগুলোতে জাহাজ চলাচলের অবাধ অধিকার নিশ্চিতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় দ্বিপক্ষীয় এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল। ফরাসি সফর শেষে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী তার ইউরোপীয় সফরের পরবর্তী ধাপে জার্মানির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।



