Homeদৈনিক সংবাদআন্তর্জাতিকগ্রিনল্যান্ড চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমে ছাড় নয়: ট্রাম্পের ‘অনন্তমেয়াদি’ নিরাপত্তাচুক্তিকে স্বাগত

গ্রিনল্যান্ড চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমে ছাড় নয়: ট্রাম্পের ‘অনন্তমেয়াদি’ নিরাপত্তাচুক্তিকে স্বাগত

স্বায়ত্তশাসিত আর্কটিক ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনিশ ভূখণ্ডটিতে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপন প্রতিরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নিরাপত্তাকেন্দ্রীক সমঝোতাকে একটি ‘বাধ্যতামূলক চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে চলতি সপ্তাহেই ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও গ্রিনল্যান্ডের আঞ্চলিক প্রশাসনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ ও ‘লাল রেখা’ রক্ষা চুক্তিটিতে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের কথা বলা হলেও ডেনমার্ক স্পষ্ট করেছে যে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব পূর্ণাঙ্গ অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন নিশ্চিত করেন, এই চুক্তি ডেনিশ রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি দেয়। ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চুক্তিটি ডেনমার্কের মৌলিক স্বার্থ বা ‘লাল রেখা’ রক্ষা করেছে। একই সুর মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন জানান, এই চুক্তি আঞ্চলিক সুরক্ষাকে জোরদার করার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও মন্তব্য করেছেন, এ সমঝোতা ভূখণ্ডটির ওপর ডেনমার্কের আইনি সার্বভৌমত্বকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছে।‘ইনফিনিট লাইফ’ চুক্তি ও প্রতিপক্ষ প্রতিরোধহোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের সামরিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছিলেন এবং এনিয়ে ন্যাটোর (NATO) ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। শেষমেশ চুক্তিটি সফল হওয়ায় ট্রাম্প এটিকে ‘অনন্তমেয়াদি’ বা ‘ইনফিনিট লাইফ’ চুক্তি হিসেবে আখ্যা দেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন, চুক্তির অধীনে লিখিত অনুমোদনে চীন বা রাশিয়ার কোনো কোম্পানি বা সামরিক শক্তি গ্রিনল্যান্ডে কোনো সামরিক ঘাঁটি বানাতে কিংবা সংবেদনশীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে না। একইসাথে মার্কিন বাহিনীকে স্থায়ী প্রবেশাধিকার, পিতুফিক সামরিক ঘাঁটির সম্প্রসারণসহ প্রয়োজনে তিনটি নতুন স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেবে এটি।

বিশ্লেষক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির পর নতুন সমঝোতায় মূল ভূখণ্ডের মালিকানা ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে না আসলেও আমেরিকার কৌশলগত আধিপত্য সুসংহত হলো। তবে নুকে বসবাসকারী সাধারণ গ্রিনল্যান্ডিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা মিশ্র অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা শেষে আকাশ ও সমুদ্রসীমায় মার্কিন ছাতা পাওয়ার সুবিধা থাকলেও ট্রাম্পের ভূ-রাজনৈতিক অভিপ্রায় নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি অর্জিত হয়নি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য