কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অভূতপূর্ব বিকাশ চীনের কর্মক্ষেত্র ও চাকরির বাজারকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত এই অগ্রযাত্রায় একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজের গতি বহুগুণ বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে ব্যাপক চাকরি হারানোর আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে এআই-কে প্রতিরোধ না করে ‘ডুবুন, নয়তো সাঁতার কাটুন’ নীতি মেনে প্রযুক্তির সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন চীনা কর্মীরা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য স্ট্রেইটস টাইমস’-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রযুক্তিটির প্রভাবে চীনা পেশাজীবীদের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্যময় রূপ। বেইজিং, সাংহাই, শেনঝেনসহ বিভিন্ন শহরের আইনজীবী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী, ডিজাইনার ও গণমাধ্যম কর্মীরা কাজের গতি বাড়াতে ডিপসিক (DeepSeek) ও দৌবাওয়ের (Doubao) মতো স্থানীয় এআই টুল নিয়মিত ব্যবহার করছেন।
প্রযুক্তির সহায়তায় কাজের গতি বাড়লেও এর নেতিবাচক ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে অনেককে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ এআই ইনডেক্স প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট শিল্প রোবটের অর্ধেকেরও বেশি একা স্থাপন করেছে চীন। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, চালকহীন অ্যাপোলো গো (Baidu Apollo Go) এবং ভিডিও তৈরির অ্যাপ আসার পর নাটক ও অভিনয়শিল্পী, ডিজাইনার এবং গাড়িচালকদের উপার্জনে ভাটা পড়েছে। ২০২৫ সালে বেইজিংয়ের চেউং কং গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৫.৫ শতাংশ কর্মজীবী আগামী তিন বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন।
এআইয়ের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চীনা কর্মীরা এখন কৌশল নির্ধারণ, নেতৃত্ব, গ্রাহক সেবা ও মানুষের সাথে সম্পর্কের মতো মৌলিক জায়গাগুলোতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পবিপ্লবের মতো এআই প্রথাগত কিছু চাকরি বিলুপ্ত করলেও নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি করবে। ফলে প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে সেটিকে ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছেন তারা।
কর্মীদের সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান ও আইনি পদক্ষেপ
এআইয়ের ফলে উদ্ভূত বেকারত্ব নিরসনে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চীনের মানবসম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি হাংজৌয়ের এক আদালত এআই ব্যবহারের দোহাই দিয়ে কর্মীর বেতন কমানো ও চাকরিচ্যুত করাকে অবৈধ ঘোষণা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। চীনের স্পষ্ট প্রশাসনিক বার্তা—প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো যাবে না, তবে এআই গ্রহণের পূর্ণ ক্ষতি বা বোঝা একা কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্দায়িত্ব নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।



