ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদনা পর্ষদের উদ্যোগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো ব্রেইল পদ্ধতির বই প্রকাশ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় সবার সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডাকসুর সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি প্রকাশ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সম্পাদিত বইটির নাম “গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান”। সম্পাদনা ও রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অন্যান্যের মধ্যে যুক্ত ছিলেন রিয়াদুল ইসলাম জুবা, রিজওয়ান মানসুরী, আশফাক উল্লাহ আসিফ, সাইমুম ফেরদৌস এবং সুহাইল মাহদীন। বইটি ‘ডিজাবিলিটিস রাইটস বাংলাদেশ’ (ডিআরবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়, যেন শিক্ষার্থীরা সহজেই তা সংগ্রহ করে পড়তে পারেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসু নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
| দায়িত্বশীল কর্মকর্তা | বক্তব্য ও গুরুত্ব |
|
সাদিক কায়েম (ভিপি, ডাকসু) |
“ডাকসু সবাইকে ধারণ করে। ব্রেইল বই প্রকাশ একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ওয়াক-ওয়ে নির্মাণসহ বেশ কিছু প্রকল্প আমলাতান্ত্রিক সদিচ্ছার অভাবে ঝুলে থাকলেও তাঁদের সহায়তায় ডাকসু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” |
|
এস. এম. ফরহাদ (জিএস, ডাকসু) |
“এটি ডাকসুর অন্যতম ঐতিহাসিক ও ভিন্নধর্মী কাজ। আর্থিক সীমাবদ্ধতা না থাকলে আমাদের ইচ্ছে ছিল ডাকসুর সব প্রকাশনাই ব্রেইলে রূপান্তর করার। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।” |
|
মুহা. মহিউদ্দীন খান (এজিএস, ডাকসু) |
“অতীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাহিত্যচর্চায় এভাবে সরাসরি সম্পৃক্ত করার নজির নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ মাইলফলক।” |
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। সঞ্চালনা করেন রিয়াদুল ইসলাম জুবা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্রনেতৃবৃন্দসহ অধ্যায়নরত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।



