প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধযুগ পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর কাগজ-কলমে যাত্রা শুরু করলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৪ সালে। স্থবিরতা কাটিয়ে বর্তমানে তিনটি ব্যাচে মোট ২৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পুরোদমে চলছে এর পাঠদান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কৃষি ও মৎস্য—এই দুটি অনুষদের অধীনে শিক্ষাক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অঞ্চলের চাহিদা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে খুব দ্রুতই নতুন অনুষদ খোলার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুটি বিশেষায়িত গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ব্যাচে দুটি অনুষদে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু করা হয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি ছাত্রনিবাস ও ছাত্রীনিবাস ভাড়া নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “এ অঞ্চলের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, যা আধুনিক কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না, বরং চরাঞ্চলসহ মাঠপর্যায়ে নিয়ে গিয়ে বাস্তবভিত্তিক ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।” শিক্ষার্থী বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ব্যাচের একাডেমিক ও ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কাছে অতিরিক্ত ভবনের আবেদন করা হলে, সম্প্রতি ইউজিসির প্রতিনিধিদল পরিদর্শনের মাধ্যমে দুটি ভবন ভাড়া নেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভিত্তিতে ৩০ জন কর্মী এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৮ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্ত করতে স্থায়ী জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দৈনিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন সম্পর্কে উপাচার্য যুক্ত করেন, উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী ‘কৃষি হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সেই লক্ষে দক্ষ ও আধুনিক কৃষিবিদ তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত কীটতত্ত্ববিদ ড. নুর মহল আক্তার বানুকে নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন নেতৃত্ব, আবাসন সংকট নিরসন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে উত্তরের প্রান্তিক জেলার এই বিদ্যাপীঠটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেওয়ার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।



