দেশের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংস্কার কাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে ডাকসু সংগ্রহশালা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ফিতা কেটে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার সার্বিক তত্ত্বাবধানে জরাজীর্ণ সংগ্রহশালাটিকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভে রূপান্তর করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস. এম. ফরহাদ, সাবেক ভিপি মরহুম বদরুল আলমের কন্যা ফারজানা আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ডাকসুর ভূমিকা অপরিসীম হলেও এতদিন এসব তথ্য যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে অবহেলায় পড়ে ছিল।
সংগ্রহশালাটিতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের দুর্লভ দলিল, চিত্র ও শহীদদের স্মৃতি কালানুক্রমিকভাবে (Chronologically) ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯২১ সাল থেকে গঠিত ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি-জিএসদের নামসংবলিত বিশেষ অনার বোর্ড যুক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের অতিথি ফারজানা আলম বলেন, ১৯৫৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইতিহাসকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশক হবে।
ডাকসু জিএস এস. এম. ফরহাদ জানান, ১৯৯০ সালের পর অবহেলায় অচল পড়ে থাকা এই সংগ্রহশালাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো হয়েছে। সংগ্রহশালাটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে আগামী এক সপ্তাহ সংশোধনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে। ভিপি সাদিক কায়েম এবং সম্পাদিকা ফাতিমা তাসনিম জুমা জানান, কোনো ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে সাবেক নেতৃবৃন্দ, গবেষক ও দেশবাসীর নিকট থাকা পুরোনো ছবি, প্রকাশনা, স্মারক ও জুলাই বিপ্লবের দুর্লভ চিত্র ডাকসু সংগ্রহশালায় জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।



