Homeইতিহাসজার্মানির সাক্সনি-আনহাল্টে ভোটগ্রহণ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার কট্টর ডানপন্থি এএফডির সরকার গঠনের...

জার্মানির সাক্সনি-আনহাল্টে ভোটগ্রহণ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার কট্টর ডানপন্থি এএফডির সরকার গঠনের সম্ভাবনা

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সাক্সনি-আনহাল্টে ঐতিহাসিক রাজ্য নির্বাচন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের সব পূর্বাভাস সত্য প্রমাণিত হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জার্মানির কোনো রাজ্যে সরকার গঠনের সুযোগ পেতে যাচ্ছে কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)। নির্বাচন-পূর্ববর্তী জরিপগুলোতে প্রায় ৪০ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাচ্ছে এএফডি। বিপরীতে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থি ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ (সিডিইউ) পিছিয়ে থেকে মাত্র ২৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক ‘ফায়ারওয়াল’ ভাঙার কৌশল
নির্বাচনি বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দলগুলো ৫ শতাংশের ন্যূনতম ভোটসীমা পার হতে ব্যর্থ হলে এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। এএফডির প্রধান প্রার্থী এবং সিডিইউর প্রাক্তন সদস্য উলরিশ জিগমুন্ড (যাঁকে প্রভাবশালী জার্মান সাময়িকী ডের শপিগেল ‘জার্মানির সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছিল) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।

জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ড-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিগমুন্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মূলধারার দলগুলো রাজনৈতিকভাবে এএফডিকে একঘরে করে রাখতে যে ‘ফায়ারওয়াল’ বা বয়কট নীতি তৈরি করেছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এএফডি একাই সরকার গঠন করে তা ভেঙে চুরমার করে দেবে। স্থানীয় নির্বাচনে ইতোমধ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক বাধার দেয়াল টপকাতে সক্ষম হয়েছে দলটি। তবে এএফডি শেষ পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বর্তমান রাজ্যপ্রধান স্ভেন শুলৎসের নেতৃত্বাধীন সিডিইউ জোট সরকার গঠনের আলোচনায় মূল ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় রাজনীতির ওপর প্রভাব ও প্রতিবাদের ঝড়
সাক্সনি-আনহাল্টের এই নির্বাচনকে কেবল রাজ্য পর্যায়ের লড়াই হিসেবে দেখছে না এএফডি। ২০২৯ সালের জার্মান জাতীয় ফেডারেল নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে এ জয়কে দেখছে তারা। এদিকে, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন সিডিইউ এই নির্বাচন নিয়ে চরম চাপে রয়েছে। সম্প্রতি এক প্রচার সমাবেশে চ্যান্সেলর মেরৎস অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এএফডির মতাদর্শকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এএফডি নেতা মার্টিন রাইখার্টের বিতর্কিত মন্তব্য—‘জার্মানি অলস, অসামাজিক ও মাদকের গন্ধমাখা’—এর কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

অন্যদিতে, নির্বাচন কেন্দ্র করে কট্টর ডানপন্থি এই শক্তির উত্থান ঠেকাতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। ভোটের আগের রাতে গণতন্ত্র রক্ষায় আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশ ও উৎসবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৪টা (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা) থেকেই কাঙ্ক্ষিত এই ভোটের প্রাথমিক ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য