প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসনাইন রাসেল। তিনি পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে। রাসেল ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রও ছিলেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়ায় নিজ বাড়িতে যান রাসেল। সেখানে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা মায়ের মরদেহের মুখ শেষবারের মতো দেখেন তিনি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর অযু করে পোশাক পরিবর্তন করেন তিনি। পরে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজার স্থানে নেওয়া হয় তাকে।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান রাসেল। তিনি বলেন, “আমার মা প্রকৃতপক্ষে একজন গৃহিণী ছিলেন। আজকে তিনি পৃথিবীতে নেই। আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং কবরের সওয়াল-জবাব সহজ করে দেন।”
এ সময় পরিবারের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
পরে রাসেল মায়ের জানাজায় অংশ নেন। এতে ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে পুলিশের পাহারায় পার-ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে যান রাসেল। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দেওয়ার পাশাপাশি দোয়ায় অংশ নেন তিনি। আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়।
রাসেলের মা এবং পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের স্ত্রী বেগম নুরজাহান রেখা বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মায়ের অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে রাসেলের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর তাকে চাটমোহর থানার আরেকটি বিস্ফোরক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
এরপর মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পাবনার জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য রাসেলকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।



