পাবনার ঈশ্বরদীতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। রোববার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী পৌর শহরে ঝাড়ু হাতে এ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা এবং দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এ সময় পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমনের পদ বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।
দলীয় ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের একটি মামলা ছিল। ওই মামলায় গত ৬ আগস্ট পাবনার ১ম যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম. সারওয়ার জাহান তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।
রায় ঘোষণার মাত্র ১০ দিনের মাথায় সুমনকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পাবনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খান বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী মুক্ত অবস্থায় থাকার সুযোগ নেই। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে অর্থদণ্ডের ৫০ শতাংশ অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এদিকে গত ২০ আগস্ট ঢাকার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকেও ইমরুল কায়েস সুমন অংশ নেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সুমনের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশের বিষয়টি জানার পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তাকে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের দাবি, সুমন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
জাকারিয়া পিন্টু বলেন, “আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিকে আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে দলীয় পদ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দলীয় বৈঠকেও নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল ইসলাম তুহিনকে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া হাবিবের অনুসারী জুবায়ের হোসেন বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঈশ্বরদী শহরে মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরুল কায়েস সুমন। তিনি বলেন, বাদীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ও দেনাপাওনা ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রায়ের বিষয়ে তিনি আগে জানতেন না দাবি করে সুমন বলেন, “এখন শুনছি। আইনগতভাবে দ্রুতই বিষয়টির সুরাহা করা হবে।”
পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, “সুমনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগও করেনি। মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক কি না, সেটিও আগে দেখতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার নেতৃত্বে আসার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।



