জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চিত্রশিল্পের ভাষায় তুলে ধরতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে বিশেষ আর্ট ক্যাম্প ও চিত্রপ্রদর্শনী ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের ৫৬ জন বিশিষ্ট ও তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল চিত্রশিল্পীর শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি-২-এ আয়োজিত প্রদর্শনীটি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে শুক্র ও শনিবার প্রদর্শনী চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চারুশিল্পে বাংলাদেশের নিজস্ব পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যশিল্পের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে চিত্রকলা ও সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখসহ দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মো. মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা, শিল্পী আব্দুর শাকুর শাহ এবং চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওপেং।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চল।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের শিল্পকর্মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মৃতি, অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন ভিন্ন শিল্পভাষায় উঠে এসেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রদর্শনী সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়কে শিল্পের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।



