জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে ইসলামপন্থী একটি পক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনই বর্তমান সময়ের প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এক দীর্ঘ লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করা। তাদের আশঙ্কা ছিল, সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে নির্বাচন হলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে বলা হয়, দলটি শেষ পর্যন্ত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা দেখায়নি। লেখকের দাবি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়ার পরও তা কার্যকর করা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অবসান এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। ইসলামপন্থীদের জন্য এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রে ইসলামী রাজনীতির অনুকূল পরিবেশ তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
লেখক দাবি করেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—এই ধারাবাহিক আন্দোলনে ইসলামপন্থী দল ও আলেম সমাজ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তাই জুলাইয়ের ইতিহাস ও রাজনৈতিক অর্জনে তাদের অবদান স্বীকৃতি পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করা হয়।
গণভোট প্রসঙ্গে বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে গণভোটকে সমাধান হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটে ইতিবাচক ফল আসার পরও সেই রায়ের বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অজান্তে একটি ব্যাখ্যামূলক নোট সংযোজন করা হয়েছে, যা সনদের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করেছে বলে তারা মনে করেন।
লেখক আরও বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুটি পথ রয়েছে—একটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষিত সংস্কার এজেন্ডা, অন্যটি পূর্ববর্তী সাংবিধানিক কাঠামো। তার মতে, যারা জুলাইয়ের পক্ষে, তাদের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
বক্তব্যের শেষাংশে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে গণমত গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


