প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে সাধারণ পরিষদে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন।
আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত সূচিত হতে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের আর্কাইভ অনুযায়ী, ১৯৪ সদস্যবিশিষ্ট বিশ্বমঞ্চে জিয়া পরিবার ৩টি পৃথক প্রজন্মে প্রতিনিধিত্ব করছে। ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ক্ষুধা মুক্তির তাগিদ দিয়ে ঐতিহাসিক বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে জাতিসংঘের ৫০তম স্মারক অধিবেশন ও শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনসহ মোট ৫টি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে, কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ভাষণের মূল উপজীব্য ও কূটনৈতিক রূপরেখা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওয়ানা হবে। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি বৈশ্বিক নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন, যেখানে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আরও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং টেকসই সংকট সমাধানের ওপর আলোকপাত করবেন। এছাড়া সফর জুড়ে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিতকরণে নতুন করে কূটনৈতিক জোর দেবেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।



