মহাকাশ বিজ্ঞানে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ আট বছরের দীর্ঘ ও জটিল যাত্রা শেষে অবশেষে সৌরজগতের নিকটতম এবং সবচেয়ে কম অন্বেষণ করা গ্রহ বুধের (Mercury) খুব কাছে পৌঁছে গেছে যৌথ মহাকাশযান ‘বেপিকোলম্বো’। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA) এবং জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা JAXA-এর যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের অক্টোবরে শুরু হয়েছিল এই উচ্চাভিলাষী মহাকাশ মিশন।
প্রায় ৬০০ কোটি মাইলেরও বেশি দুর্গম পথ অতিক্রম করে যানটি এখন তার চূড়ান্ত গন্তব্যের দোরগোড়ায়। সূর্যের প্রবল মহাকর্ষীয় টান কাটিয়ে বুধের গতির সাথে সামঞ্জস্য রাখা মহাকাশবিজ্ঞানের অন্যতম কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই যানটিকে সরাসরি না পাঠিয়ে জটিল ও দীর্ঘ ঘুরতি পথে পরিচালনা করতে হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও মিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ:
- প্রচণ্ড তাপমাত্রা: সূর্যের অতি নিকটে অবস্থিত হওয়ায় বুধের দিনের বেলার তাপমাত্রা পৌঁছায় প্রায় ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই চরম উষ্ণতায় ভেতরের সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
- জটিল কৌশল: কক্ষপথে সফলভাবে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মূল যানটি থেকে ‘ট্রান্সফার মডিউল’ আলাদা করার মতো চরম ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ ইতোমধ্যেই পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ নভেম্বর বেপিকোলম্বোর অন্তর্ভুক্ত দুটি পৃথক অরবিটার—ইউরোপের ‘এমপিও’ (Mercury Planetary Orbiter) এবং জাপানের ‘এমআইও’ (Mercury Magnetospheric Orbiter)—বুধের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে গ্রহটির নিজস্ব কক্ষপথে প্রবেশ করবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এপ্রিল থেকে অরবিটার দুটি পৃথক হয়ে নিজস্ব গবেষণা শুরু করবে। এই মিশনটির মাধ্যমে বুধের অদ্ভুত রহস্যময় গহ্বর (Hollows), উচ্চ ঘনত্বের রহস্য এবং গ্রহটির অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে অভূতপূর্ব সব তথ্য জানতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।



