রাশিয়ার হুমকির মুখে সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সর্বাধুনিক ‘হিমার্স’ (HIMARS) রকেট আর্টিনারি সিস্টেম কেনার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইডেন। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭ বিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা বা ৭৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুইডেন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
হাই-টেক ‘হিমার্স’ এবং প্রতিরক্ষা কৌশল
সুইডিশ সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মার্কিন এই অত্যাধুনিক রকেট সিস্টেম সংগ্রহের ফলে সুইডেনের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি দূরপাল্লার সীমানায় সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার ক্ষমতা অর্জন করবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাল ইয়োনসন গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রতিরক্ষা সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘লকহিড মার্টিন’-এর তৈরি এই চুক্তির আওতায় লঞ্চারসহ অন্তত ১০টি বিশেষ ট্রাক ও বিপুল পরিমাণ উন্নত গোলাবারুদ সংগ্রহ করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই সুইডেনে হিমার্স ব্যবস্থার প্রথম চালান পৌঁছানো শুরু হবে। সুইডেনের নিজস্ব তৈরি বিখ্যাত ‘আর্চার’ আর্টিলারি সিস্টেমের পাশাপাশি এই হিমার্স বাড়তি সামরিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ফিনল্যান্ডের সাথে জোট
ইউরোপের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে সুইডেন সরকার জানিয়েছে, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এমন শক্তিশালী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি, প্রতিবেশীদের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা গভীর করতে নর্ডিক দেশ ফিনল্যান্ডের সঙ্গে যৌথ ঘোষণা দিয়েছে সুইডেন। কারণ ফিনল্যান্ডও তাদের প্রতিরক্ষায় মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (MLRS) ব্যবহার করে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর ইউরোপের সামগ্রিক সামরিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। এরপরই সুইডেন ও ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সামরিক জোটনিরপেক্ষতার নীতি পরিহার করে ন্যাটোর (NATO) পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদে যোগদান করে। নিজেদের সার্বিক প্রতিরক্ষাবলয় আরও সুসংহত করতেই সুইডেনের এই বিশাল সামরিক কেনাকাটা।



