বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা। তবে সেই পরিবর্তন এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তার মতে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ছাড়া আন্দোলনের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার মুগ্ধ মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রোকেয়া বেগম বলেন, “রাজপথে নেমেছিলাম একটি পরিবর্তনের জন্য। কিন্তু সেই পরিবর্তন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন হাজারো পরিবারের জীবন বদলে দিয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া সহজ নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানেরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছে। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম তাদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানুক এবং তাদের জন্য দোয়া করুক।”
রোকেয়া বেগম আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন—তাদের স্মরণ করা এবং তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি ইসলামের শহীদ, মহান মুক্তিযুদ্ধ, পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করার আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি, উত্তরা আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা কাজী লুলুন মাখমিন, শহীদ জাবের ইব্রাহিমের পিতা কবির হোসেন, শহীদ আব্দুন নূরের বাবা মাওলানা বাশার, শহীদ আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার, শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভিনের মা বিলকিস জামান, শহীদ নাইমা সুলতানার মা আইনুন নাহার, শহীদ রিদয়ান শরীফ রিয়াদ জয়ের মা রুপালি আক্তার, আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল, উত্তরা ইউনাইটেড ক্লাবের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
দিনব্যাপী আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, ‘বিদ্রোহের উত্তরা’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কাশিদার কাওয়ালি পরিবেশনা। এতে উত্তরার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।


