অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ডারউইনে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সোমবার প্রথম অনুশীলন সেশনে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং ও ফিটনেস নিয়ে নিবিড় প্রস্তুতি নেন ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট একই ভেন্যুতে আরও দুই দিন অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল। এরপর ৬ আগস্ট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। প্রথম টেস্টের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের এটিই হবে শেষ সুযোগ।
এদিকে, চোট কাটিয়ে দলে যোগ দিতে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। তার প্রত্যাবর্তন দলের জন্য ইতিবাচক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় দুই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর এটি হবে দেশটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সফর। পাশাপাশি এই সিরিজটি ২০২৫–২০২৭ আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় এর গুরুত্বও অনেক বেশি।
দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়া পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করেছে, যা প্রমাণ করে তারা বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। তার মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা এবং মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইনজুরির কারণে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে না পেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে শক্তিশালী দলই নির্বাচন করা হয়েছে। তার বিশ্বাস, কঠিন অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনেও বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে সক্ষম হবে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজের হতাশা পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। তাই ডারউইনের প্রথম অনুশীলন থেকেই দেখা গেছে বাড়তি মনোযোগ ও প্রস্তুতির ছাপ। ব্যাটাররা দীর্ঘ সময় নেটে অনুশীলন করেছেন, আর পেসার ও স্পিনাররা স্থানীয় কন্ডিশন অনুযায়ী নিজেদের পরিকল্পনা ঝালিয়ে নিয়েছেন। পুরো অনুশীলন সেশন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন কোচিং স্টাফ।
এখন দলের পুরো মনোযোগ ৬ আগস্টের প্রস্তুতি ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সই অনেকাংশে নির্ধারণ করতে পারে ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের সম্ভাব্য একাদশ। কঠিন এই সফরে ইতিবাচক সূচনা করাই এখন শান্তদের প্রধান লক্ষ্য।


