লাইফস্টাইল ডেস্ক: রান্নায় রসুন একটি অপরিহার্য উপাদান হলেও এর খোসা ছাড়ানো অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ কাজ। ছোট ছোট কোয়ার শক্ত খোসা তুলতে গিয়ে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি নখ ও আঙুলেও চাপ পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ছুরি ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
তবে খুব সহজ একটি ঘরোয়া কৌশল ব্যবহার করে মাত্র ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডে একসঙ্গে অনেকগুলো রসুনের খোসা ছাড়ানো সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন হবে না কোনো বিশেষ রান্নাঘরের সরঞ্জাম।
কেন রসুনের খোসা ছাড়ানো কঠিন?
রসুনের প্রতিটি কোয়া পাতলা কিন্তু শক্ত খোসায় আবৃত থাকে। হাত দিয়ে খোসা ছাড়াতে গেলে অনেক সময় কোয়াগুলো ভেঙে যায়। আবার ছুরি ব্যবহার করলে সময় বেশি লাগে এবং অসাবধানতায় হাত কেটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
এ ছাড়া রসুনে থাকা সালফারজাতীয় যৌগের কারণে হাতে দীর্ঘ সময় তীব্র গন্ধ লেগে থাকতে পারে, যা সাবান দিয়ে ধোয়ার পরও সহজে দূর হয় না।
৩০ সেকেন্ডে রসুনের খোসা ছাড়ানোর পদ্ধতি
এই পদ্ধতির জন্য একটি ঢাকনাযুক্ত স্টিল বা প্লাস্টিকের পাত্র নিন।
১। প্রথমে গোটা রসুন থেকে সব কোয়া আলাদা করুন।
২। কোয়াগুলো পাত্রে রেখে ভালোভাবে ঢাকনা লাগিয়ে দিন।
৩। এরপর পাত্রটি দুই হাতে ধরে ২০–৩০ সেকেন্ড জোরে ঝাঁকান।
৪। ঝাঁকানোর ফলে কোয়াগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খোসা আলগা হয়ে যাবে।
৫। ঢাকনা খুলে দেখবেন, অধিকাংশ রসুনের খোসা নিজে থেকেই খুলে গেছে। এরপর শুধু খোসাগুলো আলাদা করলেই হবে।
ঢাকনাযুক্ত পাত্র না থাকলে কী করবেন?
যদি এমন পাত্র না থাকে, তাহলে দুটি স্টিলের বাটি ব্যবহার করেও একই কাজ করা যায়।
একটি বাটিতে রসুনের কোয়াগুলো রেখে অন্য বাটিটি উল্টো করে মুখোমুখি লাগিয়ে নিন। এরপর দুই বাটি শক্তভাবে ধরে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ঝাঁকান। এতে একইভাবে রসুনের খোসা আলগা হয়ে যাবে এবং সহজেই কোয়াগুলো আলাদা করা যাবে।
এই পদ্ধতির সুবিধা
এই কৌশলে একসঙ্গে অনেকগুলো রসুনের খোসা ছাড়ানো যায়, ফলে রান্নার প্রস্তুতিতে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। নখ দিয়ে খোসা তুলতে হয় না বলে আঙুলে চাপ পড়ে না এবং ছুরি ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে যায়। বিশেষ করে বেশি পরিমাণ রসুন ব্যবহার করতে হলে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।
সংরক্ষণের পরামর্শ
রসুনের খোসা ছাড়ানোর পর যদি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার না করেন, তাহলে কোয়াগুলো শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন পাত্রে সংরক্ষণ করুন। দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে রসুনের স্বাদ ও প্রাকৃতিক ঘ্রাণ কমে যেতে পারে।


