শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ উল্লেখ করে সংকট নিরসনে গৃহীত রূপরেখা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক মতবিনিময় সভায় দেশবরেণ্য ব্যবসায়ী নেতা, শিল্প উদ্যোক্তা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সামনে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের পথরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এলএনজি টার্মিনাল সচল ও ২০২৭ সালের নতুন পরিকল্পনা
শিল্পকারখানায় সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে সারা দেশে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। তবে ইতোমধ্যেই সেই দুর্ঘটনাজনিত কারিগরি সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই স্বাভাবিক সরবরাহে ফিরবে শিল্প খাত।
তিনি আরও জানান, ঘাটতি স্থায়ীভাবে মোকাবিলা করতে সরকার জিটুজি (G2G) ভিত্তিতে তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রাথমিক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি মূল সরবরাহ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গভীর সংকট চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরে এক জাদুতে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন ধরে এগোচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি, তা অর্জন করতে হলে শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।”
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্ব থাকে, তাকে দেশের স্বার্থে তার পরিকল্পিত কাজগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।”
উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, তিন ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা উপস্থাপন করেন। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন, বিনিয়োগ বোর্ডের প্রধান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ছাড়াও এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, আইসিসি এবং দেশের শীর্ষপর্যায়ের গণমাধ্যম সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



