Homeদৈনিক সংবাদআন্তর্জাতিকসমুদ্রসীমা ও বিশাল জ্বালানি বিরোধ: আন্তর্জাতিক আদালতে মুখোমুখি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড

সমুদ্রসীমা ও বিশাল জ্বালানি বিরোধ: আন্তর্জাতিক আদালতে মুখোমুখি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড

সমুদ্রসীমা এবং ব্যাংকক উপসাগরে বিশাল সামুদ্রিক তেল-গ্যাস সম্পদের যৌথ মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সিঙ্গাপুরে জাতিসংঘ-সমর্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতের (পিসিএ) মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিবেশী দুই দেশ কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড। ২০০১ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ‘এমওইউ ৪৪’ (MOU 44) থেকে থাইল্যান্ড একতরফাভাবে সরে আসার পর এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে আন্তর্জাতিক প্যানেলের কাছে আবেদন করে কম্বোডিয়া।

মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বিশ্বের প্রাচীনতম আন্তঃসরকারি বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা পিসিএ-র কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইনের পাঁচ বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সামনে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা তাঁদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন। কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন ও থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

২৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি
ব্যাংকক উপসাগরের প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের সমুদ্রসীমাকে উভয় দেশই নিজেদের দাবি করে আসছে। থাইল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, এই বিরোধপূর্ণ এলাকার তলদেশে থাকা অব্যবহৃত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত মে মাসে থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বাস্তবায়নে ‘অগ্রগতি নেই’ দোহাই দিয়ে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার অধিকার রক্ষায় এই নিরপেক্ষ সমঝোতা প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই কেবল জ্বালানি কেন্দ্রিক নয়; এর সাথে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। গত বছর উভয় দেশের স্থল সীমান্তে ঘটা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানি ও ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই সামুদ্রিক আইনি পদক্ষেপ নতুন মাত্রা পেল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সময়ের ২০০১ সালের চুক্তি বাতিল করে বর্তমান থাই সরকার নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। বিপরীতে, স্থল সীমান্তে তুলনামূলক ব্যাকফুটে থাকা কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের মাধ্যমে কম খরচে সর্বাত্মক আইনি অধিকার নিশ্চিতের কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে। পিসিএ প্যানেলের সুপারিশ চূড়ান্ত বাধ্যতামূলক না হলেও এই প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত আসতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য