Homeদৈনিক সংবাদআন্তর্জাতিকরাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনায় কারাদণ্ডের মুখে রুশ সমাজসেবী লিদা মোনিয়াভা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনায় কারাদণ্ডের মুখে রুশ সমাজসেবী লিদা মোনিয়াভা

দীর্ঘ দুই দশক ধরে রাশিয়ার অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবায় নিয়োজিত ৩৮ বছর বয়সী খ্যাতনামা মানবিক কর্মী লিদা মোনিয়াভাকে গ্রেফতার করেছে রুশ পুলিশ। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর বিষয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

চলতি মাসের শুরুতে গ্রেফতারের পর থেকে পায়ে ইলেকট্রনিক নজরদারি ডিভাইস পরিয়ে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে জাতিসংঘের পরিসংখ্যান উল্লেখ করা এবং রাশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই মামলা দায়ের করা হয়। সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ ছেড়ে ২০১৩ সালে মস্কোর প্রথম মুমূর্ষু শিশুদের হসপিস চালু করেছিলেন মোনিয়াভা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে গড়ে তোলেন তাঁর বিখ্যাত দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘হাউস উইথ দ্য লাইটহাউস’। ২০২৫ সালেই তাঁর এই ফাউন্ডেশন ১২০ কোটি রুবলের বেশি তহবিল সংগ্রহ করে, যা দিয়ে হাজার হাজার অসুস্থ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তার বাইরেও করোনা মহামারির সময় কোলিয়া নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে দত্তক নিয়ে তিনি রাশিয়া জুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন।

ঝুঁকি জেনেও দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি
২০২২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর মোনিয়াভা রাশিয়ায় আসা প্রায় ১৭ হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে সরাসরি সহায়তা দেন। একই সঙ্গে ক্রেমলিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলায় জরিমানা করা সত্ত্বেও তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি স্পষ্ট জানান যে, অসুস্থ শিশুদের অনাথ আশ্রমে ফেলে নিজে অন্য দেশে নিরাপদে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

ক্রেমলিনের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। শুনানিতে উপস্থিত হয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রবীণ সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ বলেন, “লিদা মোনিয়াভা জীবনের পক্ষে, আর যারা তাকে কারাগারে পাঠাতে চাইছে, তারা মৃত্যুর পক্ষে।” তবে ফাউন্ডেশনের কাজ বাধাগ্রস্ত না হতে মোনিয়াভা ইতোমধ্যে পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সমর্থক ও সাধারণ রুশ নাগরিকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক সংকটে যেখানে প্রায় সব পুতিন সমালোচক নির্বাসিত বা বন্দী, সেখানে লিদার মতো একজন মানবতাবাদীকে নিশানা করা চরম অন্যায়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য