দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিএনপি সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়ে জনগণের বিতৃষ্ণার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। সংস্কার নিয়ে আয়োজিত গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান জনগণের বিপুল শতাংশের বিপক্ষে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্র ও দল উভয়ের জন্যই চরম বিপজ্জনক। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি গভর্নেন্স’ (সিআইপিজি) আয়োজিত ‘সরকারের ৬ মাস: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সিআইপিজির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থানে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, নতুন সরকার আসার পর তার প্রয়োগ দৃশ্যমান হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম কড়া সমালোচনা করে বলেন, সরকারের প্রধান ও বিরোধী দল মুখে ‘জুলাই সনদের অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন’ করার কথা বললেও কার্যত তারা তা পাতায় পাতায় অস্বীকার করে যাচ্ছেন। সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং নির্বাচন কমিশন, দুদক, বিচার বিভাগ ও পুলিশের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক রূপান্তরের কথা থাকলেও গত ছয় মাসে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন পর্যন্ত করা হয়নি।
তাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাহাত্তরের বিতর্কিত সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ ক্ষমতায় এসে সেই একই দল কীভাবে বাহাত্তরের সংবিধানেই আটকে থাকার দোহাই দিচ্ছে, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে বিতর্কিত নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলীয় বিবেচনায় এসব শীর্ষ পদে নিয়োগ দিয়ে বিগত স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে কি না।
প্রধান শাসক সৎ থাকা সত্ত্বেও চারপাশের লোভী ও চাটুকারদের কারণে বাস্তচ্যুত হন বলে তিনি সতর্ক করে দেন। ড. মো. মিজানুর রহমানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারকে দ্রুত সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানানো হয়।



