দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় একাধিক জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শেষ হওয়া এ অধিবেশনে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা:
- সৌরবিদ্যুতে পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর শক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। নতুন সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কেবল বিদ্যুৎ গ্রাহক থাকবে না, বরং উৎপাদকে পরিণত হবে।”
- সংকটের পটভূমি: বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে অবহেলার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে প্রতিবেশী দেশগুলো গ্যাস আহরণ করলেও কোনো ‘অদৃশ্য ইশারায়’ বাংলাদেশে অনুসন্ধান বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
- সাম্প্রতিক জোড়া ধাক্কা: দায়িত্ব গ্রহণের অল্পদিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তেল-গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। পাশাপাশি দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (FSRU) একটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় সংকট সাময়িকভাবে ঘনীভূত হয়।
চলমান সংকট নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে জনগণকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানানোর জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে অফিসের সময় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। কুইক রেন্টালের নামে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রকে ঋণগ্রস্ত করা হলেও স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করে তিনি বলেন, “১৪০০ শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজার হাজার আহত মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অর্জিত গণতন্ত্রে উসকানিমূলক আচরণ করলে পতিত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে।” বিএনপি অতীতেও দেশকে নানা সংকট থেকে উদ্ধার করেছে উল্লেখ করে তিনি বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুতই এই গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



