Homeদৈনিক সংবাদজাতীয়শেরপুরে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই মহাসড়কে হাঁটুপানি, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

শেরপুরে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই মহাসড়কে হাঁটুপানি, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণের পর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ধর্মকাম, হামছায়াপুর ও কাঠালতলা এলাকায় মহাসড়কের ওপর পানি জমে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দীর্ঘদিন ড্রেন পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় সড়ক আর কোথায় ড্রেন—তা বোঝার উপায় ছিল না। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করে। অনেক মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা পানিতে বিকল হয়ে পড়লে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কের পাশাপাশি শেরপুর পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কও পানিতে তলিয়ে যায়। পৌর এলাকার একাধিক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এছাড়া উপজেলার উচরুং, কানাইকান্দর, ফুলতলা, আন্দিকুমড়া, নওদাড়া ও নামাপাড়া গ্রামের বহু বসতবাড়ি এবং গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হয়। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলেও ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

এদিকে খন্দকারটোলা এলাকার ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদে যাওয়ার একমাত্র সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতও ব্যাহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যায়, ফলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

স্থানীয় সোহেল মির্জা, রফিকুল ইসলাম ও জাকির হোসেনের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশের ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। পাশাপাশি খাল-নালা দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ নেই। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়রা দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, খাল-নালা দখলমুক্ত করা এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ না নিলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্যও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments