Homeতীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইতালি, ২৫ শহরে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইতালি, ২৫ শহরে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’

চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ ও সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইতালি। পরিস্থিতির অবনতির কারণে সোমবার দেশটির ২৫টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে সরকার। চলতি মৌসুমে একসঙ্গে এতগুলো শহরে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হলো।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার যেখানে ২৩টি শহরে রেড অ্যালার্ট ছিল, সোমবার তা বাড়িয়ে ২৫টি শহরে করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেলা সেরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বর্তমানে রেজ্জিও কালাব্রিয়া ও মেসিনা ছাড়া দেশের প্রায় সব প্রধান শহরই তীব্র তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে। তবে এই দুই শহরেও ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বহাল রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতালির পো উপত্যকা, মধ্যাঞ্চল এবং অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহে আক্রান্ত। এছাড়া সার্ডিনিয়া দ্বীপে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে।

একই সঙ্গে মধ্য ও উত্তর ইতালির কিছু অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকছে। আবহাওয়াবিদরা এ ধরনের পরিস্থিতিকে ‘সুপার-ট্রপিক্যাল নাইট’ হিসেবে উল্লেখ করছেন, যেখানে রাতেও স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা কমে না।

রোববার মধ্য ইতালির টের্নি প্রদেশে সর্বোচ্চ ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকান অ্যান্টিসাইক্লোনের প্রভাব এবং ভূমধ্যসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠই এ তীব্র দাবদাহের প্রধান কারণ। বর্তমানে ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি রয়েছে।

আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট iLMeteo.it-এর আবহাওয়াবিদ লরেঞ্জো তেদিচি বলেন, অতিরিক্ত তাপের কারণে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে আল্পস ও অ্যাপেনাইন পর্বতমালা অঞ্চলে বিকেলের দিকে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ইতালির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ উমব্রিয়া থেকে কালাব্রিয়া পর্যন্ত অ্যাপেনাইন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং সিসিলির অভ্যন্তরীণ অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

লরেঞ্জো তেদিচির মতে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে প্রকৃত স্বস্তি পেতে অন্তত আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

তীব্র দাবদাহের কারণে দাবানলের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সিসিলি ও এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments