ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির জন্য একটি **’অত্যন্ত দুর্বল সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’**কে দায়ী করেছেন অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসটাই।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে আলোচনার অগ্রগতি থাকলেও এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
পুসটাইর ভাষ্য, মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, এই দুর্বল ও অস্পষ্ট চুক্তির কারণেই বাস্তবে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যকার সম্ভাব্য সমঝোতায় যদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক টোল আরোপ করা হবে না, বরং কেবল সামুদ্রিক সেবা বাবদ নির্ধারিত ফি নেওয়া হবে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেটি গ্রহণ করতে পারে।
তবে ইরান যদি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপর উচ্চ হারে টোল বা বড় অঙ্কের ফি আরোপের চেষ্টা করে, যা জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের (UNCLOS) পরিপন্থী, তাহলে ওয়াশিংটন তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আরও বলেন, বিষয়টি কেবল হরমুজ প্রণালির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এমন নজির প্রতিষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথেও একই ধরনের ব্যবস্থা অনুসরণের চেষ্টা হতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য প্রসঙ্গে পুসটাই বলেন, এটি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যযুদ্ধ (ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার) কৌশলের অংশ। তার মতে, ট্রাম্প একই সময়ে তিনটি ভিন্ন শ্রোতাকে লক্ষ্য করে বার্তা দিচ্ছেন—যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সমর্থক, ইরানের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়া নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হবে, তবে শুধু এ উদ্যোগই ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকট বা সম্ভাব্য সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারবে না।


