শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার অভিযোগ তুলে ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে এসব বক্তব্য দেওয়া হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিচার দাবির পুনরাবৃত্তি
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিল। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পরও সরকার এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো বিষয় থেকে জনদৃষ্টি সরাতে শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে।
ছাত্রশিবির সভাপতির অভিযোগ
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা প্রকৃত শিক্ষার্থী নন; বরং বহিরাগত ও ছাত্রসন্ত্রাসী।
তার দাবি, ছাত্রদলের অনেক কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে, যাদের ছাত্রজীবন বহু বছর আগেই শেষ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগতদের এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া এবং ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তিনি।
নূরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বন্ধে সরকার ব্যর্থ হলে ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
‘সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে’
বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো ক্যাম্পাসে সহিংসতা বা রক্তপাতের ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারের ওপর বর্তাবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
জামায়াত নেতাদের বক্তব্য
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, শিক্ষাঙ্গনে গবেষণা ও শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, কিছু গোষ্ঠী আবারও ক্যাম্পাস দখল ও টেন্ডারবাজির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তিনি দাবি করেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচনে আদর্শিক ও সাংগঠনিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েই ছাত্রদল সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
টেন্ডারবাজির অভিযোগ
জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, শিক্ষাঙ্গনে বিরোধের মূল কারণ ছাত্রদলের টেন্ডারবাজির রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, যা ছাত্রশিবির প্রতিহত করছে।
তার দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দখলদারিত্বের রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশে অংশগ্রহণ
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ গণজমায়েতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।


