প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু ইতিহাস সংরক্ষণের স্থান নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দলিল হিসেবে কাজ করবে।
বুধবার রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর ভাষায়, নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে এই জাদুঘর একটি নতুন যাত্রার সূচনা করবে এবং গণতন্ত্রের জন্য মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ মিথ্যা মামলা, নিপীড়ন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে বছরের পর বছর ঘরছাড়া ছিলেন। শুধু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু নিহত এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগও জাতি কখনো ভুলবে না।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।”
এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিলপত্র, নিদর্শন ও স্মারক পরিদর্শন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তিনি জানান, দর্শনার্থীদের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই দিন তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গণভবনে সংরক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক ও নিদর্শন নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


