ভারতে সদ্য গঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আপাতত নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ না নিয়ে একটি জনচাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন (প্রেশার গ্রুপ) হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের প্রধান লক্ষ্য হবে জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করা।
বুধবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সিজেপির কোর টিমের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বৈঠকে গণমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা, বেকারত্ব, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি (ই-২০) নীতি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
সংগঠনটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক সিজেপির পরামর্শক (মেন্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আন্দোলন জোরদারের পরিকল্পনা
অভিজিৎ দীপকে বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর ফলে সংগঠনের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদের দায়িত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আহত আন্দোলনকারীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
সিজেপির ভাষ্য অনুযায়ী, কোর টিমের বৈঠকে সাম্প্রতিক আন্দোলনের মূল্যায়ন, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচনে নয়, প্রেশার গ্রুপ হিসেবে ভূমিকা
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে অভিজিৎ দীপকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন গড়ে তোলাই তাদের অগ্রাধিকার।
তার দাবি, বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি, গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই সংগঠনটি জনমত গড়ে তুলতে চায়।
ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনেও সমর্থন
ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দীপকে।
তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই ঝাড়খণ্ডে যাব। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াব এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানাব।”
তবে সিজেপি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে রূপ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে দল গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এদিকে, একই সময়ে আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল শতাধিক সমর্থক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভারত সরকার ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি (ই-২০) নীতি বাস্তবায়ন করছে এবং এর পেছনে গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরেন অভিজিৎ দীপকে। তার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ ও পুলিশের অভিযানের ঘটনা ঘটে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে।


