ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন হলে ৮২ বছর বয়সেও তিনি লড়াই করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনার জন্য দলটির মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। এখন ৮২ বছর বয়সেও যদি বাংলাদেশের প্রয়োজন হয়, আরেকটি যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত আছি। বাংলাদেশের জনগণের শাসন ও গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে আহত হয়েছিলাম, এই ধরনের বাংলাদেশ দেখার জন্য নয়।”
আওয়ামী লীগের সমালোচনা
বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, খুন, গুম, নির্যাতন, অর্থপাচার এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো ঘটনার অভিযোগের পরও দলটির মধ্যে আত্মসমালোচনার কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, “তারা আবার দেশে ফেরার কথা বলছে। আসুক দেশে, রাজপথেই জনগণ তার জবাব দেবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রশংসা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, এই আন্দোলন দেশের মানুষের সাহস, আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।
আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “পৃথিবীতে এমন সাহসী জাতি খুব কম আছে, যারা সঙ্গীনের সামনে আবু সাঈদের মতো বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা সেই জাতি, এ নিয়ে আমরা গর্ব করি।”
আহত যোদ্ধাদের সম্মান নিশ্চিতের আশ্বাস
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া আহতদের উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব হবে না, তবে রাষ্ট্র তাদের সম্মান নিশ্চিত করবে।
তার ভাষায়, “১৯৭১ সালের শহীদদের পরিবারও সবকিছু পায়নি। আপনারাও হয়তো সবকিছু পাবেন না, কিন্তু এই সরকারের কাছ থেকে সম্মান অবশ্যই পাবেন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা।


