জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদকেই দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মতবিনিময় ও নীতিনির্ধারণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পরও বাংলাদেশে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, যা জাতির জন্য একই সঙ্গে বেদনাদায়ক এবং আত্মসমালোচনার বিষয়।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা জরুরি। তার ভাষায়, জাতীয় সংসদই হওয়া উচিত দেশের রাজনৈতিক বিতর্ক, নীতিনির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের স্মরণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা আবেগের বিষয় নয়; তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান জানাতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান—বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রাম একই ধারার অংশ। এসব আন্দোলনের শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে কার্যকর সংসদ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুশাসন এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এসব লক্ষ্য কোনো একক রাজনৈতিক দলের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, জুলাই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতার কোনো বিকল্প নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও সেখানে বিভ্রান্তি, অসহিষ্ণুতা ও অস্থিতিশীলতার সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। তাই রাজনৈতিক আলোচনা ও মতবিনিময়ে শালীনতা, যুক্তি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার জনগণের নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জনগণের স্বার্থবিরোধী বিভ্রান্তি, অস্থিতিশীলতা বা যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকার সংবিধান ও আইনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, যুগান্তর-এর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।


