আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একদিকে কূটনৈতিক সংলাপের দরজা খোলা রাখার বার্তা দিচ্ছে ইরান, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতিরও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই অবস্থান একদিকে আলোচনার সুযোগ বজায় রাখলেও অন্যদিকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শনের কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। এসব আলোচনায় তিনি জানান, কূটনৈতিক উদ্যোগ যতদিন অব্যাহত থাকবে, ততদিন ইরানও আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
একই সঙ্গে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, আত্মরক্ষা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত একটি অধিকার এবং দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ইরান সেই অধিকার প্রয়োগ করবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য ভবিষ্যতে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), দেশটির যৌথ সামরিক সদর দপ্তর এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন। তাদের দাবি, পরিস্থিতির অবনতি হলে ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়েও বিস্তৃত হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে এগোচ্ছে।
প্রথমত, অনিশ্চয়তা—পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
দ্বিতীয়ত, ভঙ্গুরতা—বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।
তৃতীয়ত, জটিলতা—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য এবং অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। এসব বিরোধ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরির ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতা, আঞ্চলিক মধ্যস্থতা এবং উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি সংলাপের পথে এগোবে নাকি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নেবে।


